Anupam Kher ও Kiron-এর ৪১ বছরের দাম্পত্য ও এক আক্ষেপ!

Anupam Kher ও কিরণ খেরের ৪১ বছরের দাম্পত্যে কোন আক্ষেপ তাড়িয়ে বেড়ায় অভিনেতাকে? জানুন তাদের সম্পর্ক, লড়াই ও এক অজানা শূন্যতার গল্প।

বলিউডের অন্যতম চর্চিত এবং অনুপ্রেরণাদায়ী জুটি হলেন অনুপম খের এবং কিরণ খের। ১৯৮৫ সালে গাঁটছড়া বাঁধার পর থেকে আজ পর্যন্ত তারা একসঙ্গে পার করেছেন জীবনের দীর্ঘ একটি পথ। রুপোলী পর্দার মতো তাদের বাস্তব জীবনটাও কিন্তু কোনো সিনেমার চেয়ে কম নয়। দীর্ঘ দাম্পত্যে বহু ওঠাপড়া দেখেছেন কিরণ-অনুপম, তাও স্ত্রীকে নিয়ে কোন আক্ষেপ অভিনেতার? এই প্রশ্নটি সম্প্রতি নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে নেটিজেনদের মনে। 

সম্পর্কের চড়াই-উতরাই, ভালোবাসা, বিচ্ছেদ এবং ক্যানসারের মতো মারণ ব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াই—সবকিছুকে সঙ্গী করেই দীর্ঘ ৪১ বছর ধরে একে অপরের হাত ধরে আছেন এই তারকা দম্পতি। কিন্তু এত বছর একসঙ্গে কাটানোর পর আজ জীবনের এই প্রান্তে দাঁড়িয়ে কোন না-পাওয়ার বেদনা তাড়িয়ে বেড়ায় অনুপম খেরকে?

alt_here

আজকের এই বিস্তারিত প্রতিবেদনে আমরা আলোচনা করব অনুপম ও কিরণ খেরের সম্পর্কের সেই অজানা অধ্যায়, তাদের দাম্পত্য টিকিয়ে রাখার মূল মন্ত্র এবং সেই গোপন আক্ষেপের কথা, যা অভিনেতা নিজেই সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অকপটে স্বীকার করেছেন।

বন্ধুত্ব থেকে ভালোবাসা: কিরণ-অনুপমের শুরুর দিনগুলো

অনুপম খের এবং কিরণ খেরের সম্পর্কের শুরুটা কিন্তু কোনো সাধারণ প্রেমকাহিনীর মতো ছিল না। চণ্ডীগড়ে থিয়েটার করার সময় থেকে তাদের পরিচয়। কিরণ ছিলেন অনুপমের চেয়ে এক বছরের সিনিয়ার এবং সেই সময়ে তিনি বেশ জনপ্রিয়ও ছিলেন। প্রথম দিকে তারা একে অপরের খুব ভালো বন্ধু ছিলেন। অনুপম খের এক সাক্ষাৎকারে মজা করে বলেছিলেন যে, বোম্বেতে স্ট্রাগল করার দিনগুলোতে তিনি কিরণের বাড়ি যেতেন এবং বাড়ি ফেরার ট্যাক্সি ভাড়াও কিরণের কাছ থেকেই নিতেন!

তবে নিয়তির খেলা ছিল অন্যরকম। কিরণ খের প্রথমে ব্যবসায়ী গৌতম বেরিকে বিয়ে করেন এবং তাদের একটি পুত্রসন্তান (সিকান্দার খের) জন্মায়। অন্যদিকে অনুপম খেরও একটি সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন যা সফল হয়নি। পরবর্তীতে কিরণের প্রথম বৈবাহিক জীবনে সমস্যা তৈরি হয় এবং অনুপম খেরও ব্রেকআপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। এই কঠিন সময়েই তাদের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব এক নতুন রূপ নেয়। ১৯৮৫ সালে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

দীর্ঘ দাম্পত্যে বহু ওঠাপড়া দেখেছেন কিরণ-অনুপম: নিখুঁত সম্পর্কের মিথ ভাঙলেন অভিনেতা

আজকের জেনারেশন যখন সামান্য কারণে সম্পর্কের ইতি টেনে দেয়, সেখানে ৪১ বছর একসাথে থাকাটা এক বিরাট কৃতিত্ব। তবে অনুপম খের কখনো দাবি করেন না যে তাদের সম্পর্কটি নিখুঁত ছিল। ভারতের প্রখ্যাত পডকাস্টার রাজ শমানির সাথে এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা অত্যন্ত সততার সাথে কিছু বাস্তব কথা তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, "আমাদের বিয়েটা যে পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা বা নিখুঁত বিয়ে, তেমনটা নয়। দীর্ঘ দাম্পত্যে বহু ওঠাপড়া দেখেছেন কিরণ-অনুপম। সম্পর্কে ক্লান্তি আসাটা খুব স্বাভাবিক। একটা সময়ে গিয়ে সেই শুরুর দিকের রোমাঞ্চ বা আগুনটা হারিয়ে যেতেই পারে। কিন্তু যা থেকে যায়, তা হলো একসঙ্গে কাটানো স্মৃতি এবং সম্পর্কটাকে টিকিয়ে রাখার আন্তরিক ইচ্ছা।"

পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ক্ষমা

  • ভুলত্রুটি স্বীকার: অনুপম খের অকপটে স্বীকার করেছেন যে, দীর্ঘ এই পথচলায় তিনি বহুবার তার স্ত্রীকে কষ্ট দিয়েছেন, কিন্তু সবসময় তাদের মধ্যে ক্ষমা ও ভালোবাসার জায়গাটি অক্ষুণ্ণ ছিল।
  • ব্যক্তিগত স্বাধীনতার গুরুত্ব: অভিনেতা জানান, তারা দুজনেই একে অপরের নিজস্ব স্পেস বা স্বাধীনতাকে সম্মান করেন। এমনকি তারা বাড়িতে আলাদা ঘরে থাকেন কারণ একেক জনের অভ্যাস একেক রকম, আর এই বৈচিত্র্যকে তারা মেনে নিয়েছেন।

স্ত্রীকে নিয়ে অনুপম খেরের সেই একমাত্র আক্ষেপ

তাহলে এত বছর পর স্ত্রীকে নিয়ে অনুপম খেরের মনে কোন আক্ষেপটি রয়ে গেল? আসলে এই আক্ষেপ কিরণের প্রতি কোনো ক্ষোভ থেকে নয়, বরং জীবনের একটি শূন্যতা থেকে তৈরি। অনুপম এবং কিরণের নিজেদের কোনো সন্তান নেই। কিরণের প্রথম পক্ষের ছেলে সিকান্দার খেরকেই অনুপম নিজের সন্তানের মতো বড় করেছেন এবং তাদের মধ্যে অত্যন্ত চমৎকার সম্পর্ক।

কিন্তু সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা নিজের মনের এক লুকানো কষ্টের কথা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, বয়স ৬০ বছর পার হওয়ার পর তিনি প্রথমবার নিজের সন্তানের অভাব গভীরভাবে অনুভব করতে শুরু করেন।

আমি আগে কখনো এটি তেমনভাবে অনুভব করিনি, কিন্তু গত ৭-৮ বছর ধরে আমার মনে হয়, কিরণ আর আমার যদি একটি নিজস্ব সন্তান থাকত, তবে কেমন হতো? সিকান্দারকে নিয়ে আমি অত্যন্ত সুখী, ও যখন ৪ বছরের ছিল তখন থেকে ও আমার জীবনে। কিন্তু একটা বাচ্চাকে নিজের চোখের সামনে বড় হতে দেখা, তার সাথে রক্তের টান অনুভব করার আনন্দটাই আলাদা। এটি আমার জীবনের কোনো ট্র্যাজেডি বা বড় বিপর্যয় নয়, তবে হ্যাঁ, মাঝে মাঝে মনে হয় এটা হলে হয়তো আরও ভালো হতো।

কিরণ

অভিনেতা আরও প্রকাশ করেন যে, কিরণ খের সন্তান ধারণ করার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু কিছু শারীরিক জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। সেই সময়ে অনুপম খের নিজের ক্যারিয়ার গড়তে এতটাই ব্যস্ত ছিলেন যে, এই শূন্যতা তখন তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। কিন্তু জীবনের এই শেষ প্রান্তে এসে এই একটি আফসোস বা আক্ষেপ তার মনে রয়ে গেছে।

আধুনিক সম্পর্ক ও জেন-জি (Gen-Z) নিয়ে অনুপম খেরের দৃষ্টিভঙ্গি

অনুপম খের তার নতুন নাটক 'জানে পেহচানে আনজানে'-এর প্রচারের সময় আধুনিক যুগের সম্পর্ক, বিশেষ করে 'সিচুয়েশনশিপ' বা 'বেঞ্চিং'-এর মতো শব্দগুলো নিয়ে নিজের মতামত ব্যক্ত করেছেন। তিনি মনে করেন, আজকের প্রজন্মের মধ্যে ধৈর্যের প্রচণ্ড অভাব রয়েছে। যেখানে তার বাবা-মা ৫৯ বছর এবং তিনি নিজে ৪১ বছর ধরে বিয়ে টিকিয়ে রেখেছেন, সেখানে আজকের যুগে মানুষ হোয়াটসঅ্যাপে ব্রেকআপ করে নেয়।

অনুপম খেরের সম্পর্কের ৩টি মূল মন্ত্র:

  1. পারস্পরিক মিল বা কম্প্যাটিবিলিটি অতিমূল্যায়িত: অনুপম খের মনে করেন, বিয়ের আগে ১০০% মিল খোঁজা বোকামি। যদি ২০-৩০% মিলও পাওয়া যায়, তবে বিয়ে করে নেওয়া উচিত। বাকিটা সারাজীবন ধরে আবিষ্কার করার মধ্যেই আসল আনন্দ।
  2. সঙ্গীকে আঘাত না করা: ঝগড়ার সময় সঙ্গীর দুর্বল জায়গায় আঘাত করা সম্পর্কের সবচেয়ে বড় ক্ষতি করে।
  3. বন্ধুত্বই শেষ কথা: আপনি আপনার বন্ধুর মন সহজে ভাঙতে পারবেন না, তাই দাম্পত্যের আগে ভালো বন্ধু হওয়া জরুরি।

উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, দীর্ঘ দাম্পত্যে বহু ওঠাপড়া দেখেছেন কিরণ-অনুপম, তাও স্ত্রীকে নিয়ে কোন আক্ষেপ অভিনেতার?—এই প্রশ্নের উত্তরটি কোনো তিক্ততা নয়, বরং জীবনের এক বাস্তব ও আবেগঘন অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ। তাদের এই পথচলা আমাদের শেখায় যে, একটি সফল সম্পর্কের চাবিকাঠি নিখুঁত হওয়া নয়, বরং একে অপরের খামতিগুলোকে মেনে নিয়ে একসাথে লড়াই করা। কিরণ খের যখন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন, তখনও অনুপম খের যেভাবে তার পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

অনুপম খের ও কিরণ খেরের এই ভালোবাসার গল্প থেকে আপনার সবচেয়ে বড় শিক্ষা কোনটি? আজকের জেন-জি প্রজন্মের সম্পর্ক নিয়ে অভিনেতার বক্তব্যের সাথে কি আপনি একমত? নিচে কমেন্ট করে আমাদের জানান এবং এই অনুপ্রেরণামূলক লেখাটি আপনার প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করুন।

দ্রষ্টব্য!
বলিউডের আরও এমন মন ছুঁয়ে যাওয়া গল্প এবং বিনোদন জগতের টাটকা খবর পেতে আমাদের অন্যান্য ব্লগ পোস্টগুলো পড়তে পারেন।.

লেখক সম্পর্কে

It's Tamim
I am a profational seo expert.

Post a Comment

Do not write spam comment